কবিতা

নাজমীন মর্তুজা

সে কি কেবলই ছবি

চমৎকার দিন আজ,
আকাশে মেঘ নেই এতটুকু
শীতের পর বাতাস বইছে।

পাশের পার্কটায় দেখে এলাম
একপাল মেগপাইয়ের সভা বসেছে,
দূর থেকে দেখলাম ভিক্টোরীয়
বিল্ডিংয়ের চূডা়য় পরীটাকে!

আকাশের দিকে বাড়ানো এক হাত
অন্য হাত তার বাঁ দিকের স্তন ছুঁয়ে আছে,
পাশে হুট করে দাঁড়িয়ে গেলো
ছানার জলের মত সবুজ ধোয়া
রঙের স্কুটার।

কালো টুপি পড়া যুবক
মাথা নেড়ে বলল- হ্যালো,
চোখ গুলো এতই চঞ্চল তার
যেন রাতের বেড়াল খুঁজতে এসেছে
দিনের আলোতে।

দূর বন্দরের মধ্যে ওঠে জাহাজের ভোঁ
মাথার উপরে উড়োজাহাজের বিষন্ন শব্দ,
হঠাৎ মনে পড়লো লাল পেড়ে
গরদের শাড়ি,
পৃথিবী আসলে মন্দ নয়
তোমরা কি বল!

প্রেমিক তোমার স্টিয়ারিং হুইল বাজ
অসহায় দুই হাত,
দাঁতে ঠোঁট চেপে বিরক্তি লুকাচ্ছো ।

তোমার কপালে ঘাম
তোমার মুখ লাল
তোমার নিকেলের চশমায় কুয়াশা।

স্বপ্ন দেখলাম যেন
দুদণ্ড দাঁড়িয়ে
অসংখ্য দেয়ালের গায়ে
যেন অবিশ্রাম তুলি দিয়ে
তোমারই মুখ, নানা ভঙ্গির।

পর্যটন শহরে রাত ৯ টা,
অচেনা রাস্তায় দাঁড়িয়ে
হিম কুয়াশায় আচ্ছন্ন
যেন বাতাসে বরফ আসছে
একটা ট্রাম স্টপে থেমে আছে
ট্রামের পেছনে বিজ্ঞাপন
লং লাস্টিং লুব্রিকেন্ট।

ওভার কোটের ভেতরের হাত মুঠো
বেঁধে চলছি
হাঁটছি স্লথ গতিতে হাঁটছি
সামনের যে কোন পাবে
ঢুকে যাবো রহস্যময়।

খেয়ে নেবো এক গ্লাস বিয়ার
গুনগুন করে গাইবো
‘অভিযোগ করাটা তোমার সাজে না’।

ঐ অচেনা স্মৃতিগুলো
অচেনা মদের নাম যা
পাবের বিজ্ঞাপনে ঝুলানো
সি-ই-নু-জা-আ-ন-ও-ও
ঘরে ফিরবার আগে
হোটেলের বলরুমে ঢুকে
নেচে নেবো দুচক্কর নাচ
হেঃ এ টুইস্ট টুইস্ট ।

চেনা রাস্তাগুলো অচেনা
গুড উড মোড়ে দাঁড়িয়ে
চুমুক দিলুম এক্সপ্রেসোর কাপে,
ট্রাফিকের সবচেয়ে সুন্দর
ক্ষণস্থায়ী হলুদ বাতি ঝলসে
উঠলে স্ট্রিট বাসের গিয়ার
বদলানোর শব্দ হলো
জ্বলে উঠলো সবুজ।

আমি জেগে উঠলাম
রাতের ঘুম ভাঙা কবুতরের পাখার ঝাপটানো
শব্দে,
আমার সামনে ভিক্টোরিয়ার পরী
পেছনে অস্পষ্ট ইফেল টাওয়ার,
সামনে বহুদূর স্ত্যাচু অফ লিবার্টি,
বাঁয়ে ব্রহ্মপুত্রের উপর দিয়ে
বয়ে আসছে গুদারা নৌকা,
মাঝির কণ্ঠে-
ওরে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়া।

আমার অচেনা শহরের ফুটে
ওঠা ফেলে আসা চেনা শহরের
ছবি,
তবে তোমরা বলো সে
কি কেবলই ছবি শুধু পটে আঁকা?

Related Posts

ফেরিওয়ালা

কী কী বহন করো ফেরিওয়ালা একটি পাখির ডাক ও ভোর? আগুনের চিৎকার বিষণ্ন শ্মশান কোলাহলআরও পড়ুন

ডায়েরি

বিভা আজ সারাদিন তোমার ডায়েরি পড়লাম প্রতিটি পাতায় লিখে রাখা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার বিষাদআরও পড়ুন

কিছুটা ভাব সাবলীল সুখ

স্তন ছোঁবে খাজনা দেব না বলে যত অনুতাপ আগ্রাহ্য রইবো অফুরান, এই শহরে…. তারাগঞ্জ থেকেআরও পড়ুন

বসন্তের কোন ক্যালেন্ডার নেই

কিছু না করার ভয়াবহতায় আচ্ছন্ন আছি অনেকদিন তবে তোমাকে নিয়ে ভাবতে পারার তৃপ্তি শরীরের ছন্দেআরও পড়ুন

সুড়ঙ্গ লালিত সম্পর্ক

এক অগাধ সমুদ্র কল্পনা করতে গিয়ে সমস্ত কল ছেড়ে দিয়ে দেখেছিলাম ,এক নতুন বিদ্রুপ। আপাতআরও পড়ুন

আয়ত বাঁচা

ব্যথার জলে খেয়া ভাসিয়ে পৌঁছে গিয়েছি তোমার বুকের পারঘাটায় গোমতী ধলেশ্বরীর বাঁধ ভেঙে ভাঙা বেড়াআরও পড়ুন

একাকী ঠোঁট

বলেছিলে… ঠোঁটের একটা তেল ছবি তুমি শুরু করেছিলে… আসলে আর জানা হয়নি শেষ হয়েছিল কিনা…আরও পড়ুন

দহন

তোমার মন পেতে অনেক অভিনয় করতে হলো তাই বদলে নিয়েছি দিনলিপি অপ্রাপ্তি আর নির্লিপ্ততার ক্ষণআরও পড়ুন

বসন্ত

বসন্তের কাঁটা কি সেখানে থমকে গেছে যে সময়কে স্মৃতি বন্দি করে রেখে এসেছি ঝাঁপি ভর্তিআরও পড়ুন

মন্তব্য বন্ধ